প্রকাশিত: ০৩/০৬/২০১৮ ৩:১৬ এএম , আপডেট: ১৭/০৮/২০১৮ ২:১৩ এএম

উখিয়া নিউজ ডেস্ক::
বৈধ কোনো ব্যবসা-বাণিজ্য নেই কিন্তু কোটি কোটি টাকার সম্পদের মালিক। তারা ব্যবসা করেন গোপনে। কারখানা পরিচালনা, পণ্য উৎপাদন, বাজারজাতকরণ, ঠিকাদারি, আমদানি-রফতানি বাণিজ্য এমন কি মুদি দোকান- কোনো কিছুই নেই তাদের। তবুও তাদের বাড়ি, গাড়ি, জমি, ফ্ল্যাট, ব্যাংকে জমানো টাকার অভাব নেই। এমন সব লোকের সম্পদের খোঁজ নিতে গিয়ে জানা যায়, এরাই মাদক ব্যবসায়ী। দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক থেকে এই তথ্য পাওয়া গেছে।

সূত্র জানায়, দুদক সারাদেশের চার শতাধিক মাদক ব্যবসায়ীর সম্পদের খোঁজে মাঠে নেমেছে। তাদের সম্পদের হিসাব করা হবে কড়ায়-গণ্ডায়। বৈধ ব্যবসা-বাণিজ্য না থাকার পরও জৌলুসপূর্ণ জীবন-যাপন, বিপুল সম্পদ কোথা থেকে এলো- এর জবাব চাওয়া হবে। সম্পদের উৎস সম্পর্কে তথ্য-প্রমাণ চাওয়া হবে। অনুসন্ধানে তাদের সম্পদ অবৈধ বলে প্রমাণ পাওয়া গেলে তা রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা হবে।

দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ সমকালকে বলেন, দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও মাদক- এই তিন সমস্যা থেকে দেশকে মুক্ত করতে হবে। যারা সন্ত্রাস করছে, মাদক ব্যবসা করছে তাদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। সমাজের এই ব্যাধি দূর করতে কমিশন নিরন্তর যুদ্ধ করে যাবে। তিনি আরও বলেন, মাদক দেশের তরুণ সমাজকে ধ্বংস করছে।

এই অপরাধ চলতে পারে না। মাদক ব্যবসায়ী, চোরাকারবারিদের সমূলে উৎপাটন করা জরুরি। আগামী দিনে তাই করা হবে।

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত আছে। পুলিশ-র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে এরই মধ্যে শতাধিক মাদক ব্যবসায়ী, চোরাকারবারি মারা গেছে। দুদক মাদক ব্যবসায়ীদের সম্পদের অনুসন্ধান শুরু করেছিল গত বছরের জুনে। এবার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান শুরু হওয়ায় দুদকের অনুসন্ধানও জোরদার করা হলো।

দুদক সচিব ড. মো. শামসুল আরেফিন সমকালকে বলেন, মাদক ব্যবসায়ীদের সম্পদের ওপর দুদকের নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। যাদের নামে-বেনামে অবৈধ সম্পদ পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দুদক আইন অনুযায়ী দুর্নীতি, প্রতারণা, ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে যে কোনো ব্যক্তির আবাসিক ভবন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, আস্তানা তল্লাশি করতে পারেন কমিশনের কর্মকর্তারা। তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অবৈধ যে কোনো বস্তু, সম্পদ জব্দ করতে পারেন তারা। আদালতের অনুমতি নিয়ে রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্তও করতে পারেন অবৈধ সম্পদ। অনুসন্ধানকালে গ্রেফতার করতে পারেন অভিযুক্ত ব্যক্তিকে।

দুদক সূত্র জানায়, এসব ক্ষমতা হাতে নিয়েই মাদক ব্যবসায়ীদের সম্পদের খোঁজে মাঠে নেমেছেন কমিশনের শতাধিক কর্মকর্তা। চার শতাধিক মাদক ব্যবসায়ীর জন্য খোলা হয়েছে শতাধিক ফাইল। একেকটি ফাইলে ২০-৫০ জন মাদক ব্যবসায়ীর নাম রয়েছে। ফাইল অনুযায়ী ওইসব অভিযোগ অনুসন্ধানে ঢাকায় ও দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়গুলোতে বিশেষ টিম গঠন করে দেওয়া হয়েছে।

ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, বরিশাল, রংপুর, ময়মনসিংহ বিভাগের চার শতাধিক মাদক ব্যবসায়ীর নামের তালিকা রয়েছে কমিশনের হাতে। মাদক ব্যবসা করে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।

দুদক জানায়, মাদক ব্যবসা করে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে এরই মধ্যে কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে একাধিক প্রভাবশালীরও রয়েছে।

দুদকের তালিকা থেকে ২৮ জন মাদক ব্যবসায়ীর নাম জানা গেছে। এর মধ্যে রাজধানীর রূপনগরের ৭ নম্বর ঝিলপাড়া বস্তির (চলন্তিকা বস্তি) নজরুল ইসলাম এরই মধ্যে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে মারা গেছে। বাকি ২৭ জনের মধ্যে অধিকাংশই কক্সবাজারের টেকনাফের। অন্যরা ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, ফরিদপুর, রাজশাহী, ফেনী ও লক্ষ্মীপুর এলাকার। একজন চট্টগ্রাম মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক।

টেকনাফ : কক্সবাজারের টেকনাফ পৌরসভার মেয়র হাজি মোহাম্মদ ইসলাম, চৌধুরীপাড়ার লামারবাজারের মিসেস উলায়ী, আলিয়াবাদের আবদুস শুক্কুর, শিলবনিয়া পাড়ার হায়দার আলী, পৌরসভার সাবেক কমিশনার ফরিদ আহমদ, পৌরসভার কাউন্সিলর মজিবুর রহমান, ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি মেম্বার রাকিব আহমেদ, সদর ইউনিয়নের ডেইলপাড়ার মো. আমিন, গুদারবিলের চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান, দক্ষিণ ফুলের ডেইলের মো. রাশেদ, চৌধুরীপাড়ার মো. সফিক, বাজারপাড়ার সাহেদুর রহমান নিপু দুদকের তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী।

এ ছাড়া রাজধানীর বারিধারার সহিদুজ্জামান ওরফে নাভিদ, মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্পের বি-ব্লকের মো. এশতিয়াক; নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার মাসদাইরের শাহীন ওরফে বন্ধক শাহী, রূপগঞ্জের চরপাড়া ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মো. বজলুর রহমান ওরফে বজলু মেম্বার; ফরিদপুরের বোয়ালমারীর কদমী গ্রামের মো. মিজানুর রহমান মোল্লা; কক্সবাজার সদরের শিলবানিয়াপাড়ার হাজি সাইফুল করিম; ফেনী সদরের সেকান্দর ডাক্তার বাড়ির পেয়ার আহমেদ, পদুয়ার ছালাহ উদ্দিন, পূর্ব উকিলপাড়ার জিয়াউর আলম, ফতেহপুরের মো. আমজাদ হোসেন, কাজিরবাগের মো. ইসমাইল হোসেন, তোরাবগঞ্জের আলী হোসেন এবং লক্ষ্মীপুরের বাঞ্চনগরের শাহ আলম মিন্টু দুদকের তালিকায় অবৈধ মাদক ব্যবসায়ী। মাদক ব্যবসায়ীর তালিকায় রয়েছে চট্টগ্রামের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মো. ফজলুর রহমানের নামও।

পাঠকের মতামত

আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের সংবর্ধনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী

গত আগস্টে আন্তর্জাতিক পবিত্র কোরআন প্রতিযোগিতায় পুরস্কার বিজয়ী বাংলাদেশের হাফেজদের সংবর্ধনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ...

ছাত্রনেতৃত্ব থেকে জনসেবার প্রত্যয়ে চেয়ারম্যান প্রার্থী জিশান

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার জালিয়াপালং ইউনিয়নের মানুষের কাছে পরিচিত মুখ মাওলানা মুহাম্মদ রিদুয়ানুল হক জিসান। ছাত্রজীবন ...

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সক্রিয় আন্তর্জাতিক উদ্যোগ চায় বাংলাদেশ

মিয়ানমারে সংঘাত চলমান থাকায় এখনো প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরি হয়নি। এ পরিস্থিতিতে মালয়েশিয়ার রোহিঙ্গা ফেরানোর উদ্যোগ ...

ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনে দুর্ঘটনায় ২ সেনাসদস্য নিহত

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলন চলাকালে ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণের সময় আকস্মিক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দুই ...

আনন্দবাজারের প্রতিবেদনহাসিনাকে প্রত্যর্পণ করা হবে না, ঢাকাকে জানাল ভারত

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণ করবে না এবং তিনি দেশে ফিরে গ্রেপ্তার হলে তার নিরাপত্তা ...
Single Page Footer